১ আগ, ২০১১

যেভাবে পাব্লিশ করবেন আপনার গবেষণা- থিসিস থেকে জার্নাল পেপার


শুরুতেই বলে নেই, এই লেখাটি যারা গবেষণা জগতে নতুন, প্রথমবারের মত আপনার আর্টিকেল কোন জার্নালে প্রকাশ করতে চান, তাদের জন্য। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক আন্ডারগ্রাজুয়েট থিসিস আছে যা ভালো জার্নালে প্রকাশ করা সম্ভব। কিন্তু অনেক শিক্ষক এ ব্যাপারে উদাসীন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ততোধিক। শুধুমাত্র পাস করার জন্য লেখা হলেও, অনেক থিসিসের গুনগত মান আন্তর্জার্তিক জার্নালে প্রকাশ করার মত। এগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন স্কলারশিপ পেতে ছাত্রদের যেমন সাহায্য করবে, তেমনি শিক্ষকদের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ ফেলো/ পোস্ট ডক্টোরাল ফেলো হিসাবে মনোনায়ন পেতেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। বাইরের দুনিয়ায় ছাত্র-শিক্ষকদের উন্নতমানের পেপার লিখতে উৎসাহ দিতে আর্থিক পুরস্কার দিয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো গবেষনা প্রকাশণাকে তেমনভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয় না। মনে রাখতে হবে, রিসার্চ পাব্লিকেশন আমাদের দেশের ও ভার্সিটির নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যায়। এটি রিসার্চ কোলাবোরেশন ও আন্তর্জার্তিক গবেষণা অনুদান আনতেও বিশেষ ভুমিকা পালন করে।

কিভাবে আপনার থিসিসকে পেপারে রূপান্তর করবেন?
আন্ডারগ্রাজুয়েট ও পোস্ট-গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের থিসিস জমা দেবার পরে, সেটাকে পেপারে রূপ দেয়া খুবই সহজ একটি কাজ। পেপারের মূল গঠন থিসিসের চেয়ে অনেক কম হয়ে থাকে। ৬০০০শব্দে হয়ে যেতে পারে একটি পরিপূর্ন জার্নাল পেপার। থিসিস থেকে কাট ছাট করার এই প্রক্রিয়াটি করার জন্য দরকার হবে ২/৪ দিন সময়।
প্রথমে একটি আউটলাইন তৈয়ার করুন। যেমনঃ
১।টাইটেল ২।এবস্ট্রাক্ট ৩।কী-ওয়ার্ড ৪। ইন্ট্রোডাকশন ৪।বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ১ ৫। বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ২ ৬।রেজাল্ট ও ডিস্কাশন
৭।একনলেজমেন্ট ৮।কনক্লুশন ৯।রেফারেন্স

এরপর এই কাঠামোর ভেতরে লিখতে থাকেন।
১.ক। থিসিসের টাইটেল টিকে জার্নাল পেপারের টাইটেল হিসেবে চালিয়ে দিতে পারেন, অথবা কিছু স্পেসিফিক কি-ওয়ার্ড জুড়ে দিয়ে সুন্দর-সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিশ্লেষনাত্মক একটি প্রাসঙ্গিক শিরোনাম দিতে পারেন। অথারলিস্টে শিক্ষার্থীর নাম, সুপারভাইজারের নাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন অব্দান যারা রেখেছেন তাদের নাম থাকা উচিত। এফিলিয়েশনে ভার্সিটির নামের সাথে ঠিকানায় একটি ভাল ইমেইল এড্রেস দিন। পূর্ণ নাম যুক্ত ইমেল এড্রেস দেয়াই প্রচলিতরীতি।
 ১.খ। এবস্ট্রাক্টটি সংক্ষিপ্ত হতে হবে। সাধারনত ৫০০ বা তার কম শব্দের মদ্ধ্যেই পুরো লেখার সারমর্ম এই অংশে প্রকাশ করতে হয় , জার্নালের গাইড লাইন অনুযায়ী। অবশ্যই আপনার পেপারের গুরুত্ব বুঝিয়ে কিছু ভুমিকা দিতে হবে। এরপরে খুব সংক্ষেপে পেপারে মূল কি বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে, কি কি মেথড ব্যবহার হয়েছে তার উল্লেখ থাকতে হবে। রেসাল্ট-ডিস্কাশন থেকে ধার করে কিছু রেজাল্টও এই অংশে যুক্ত করতে হবে।
১. গ। কী-ওয়ার্ডঃ ৫/৬ টি শব্দ নির্বাচনের মাধ্যমে আপনার লেখাটির মূল বিষয় ও সীমানা পরিস্কার করে ফেলতে হবে। কীওয়ার্ড হিসাবে বৈজ্ঞানিক টার্ম, প্যামিটারেরগুলোর নাম ব্যবহার করা যেতে পারে। টাইটেল থেকেও কিছু মূল শব্দ ধার করতে পারেন।
১.ঘ। থিসিসের ইন্ট্রোডাকশন থেকে নির্বাচিত অংশ নিয়ে জার্নাল পেপারের ইন্ট্রোডাকশন হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ইন্ট্রোডাকশন সাম্প্রতিক রেফারেন্সযুক্ত করা উচিত, বিশেষ করে যেই জার্নালে পাঠাবেন- সেই জার্নালে প্রকাশিত কিছু পেপার অবশ্যই যুক্ত করুন। এই অংশে লেখার স্কোপ, তাতপর্য, গুরুত্ব, উদ্দেশ্য, আপনার পেপারের মূল আলোচ্য সমস্যার বর্নণা থাকতে হবে।
১. ঙ। বিষয় ভিত্তিক আলোচনাঃ এই অংশটি লিটারেচার রিভিউ থেকে নিতে পারেন। পেপারের রেজাল্টগুলোর প্যারামিটারগুলো বর্ননা করতে পারেন। যেসব ইকুপমেন্ট-যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে তার পরিচিতি ও একুরেসী দিতে হবে। এই অংশে যে মেথডলজি এই পরীক্ষার ব্যবহার করা হয়েছে, সেটাও থাকতে হবে।
১.চ। রেজাল্ট ও ডিস্কাশনে গ্রাফ ও টেবিল থাবে। প্রতিটি টেবিল ও গ্রাফের/চার্টের বর্ননা পাশাপাশি থাকতে হবে। ডিস্কাশনে প্রাসঙ্গিক কিছু পেপারের রেজাল্টের সাথে তুলনা থাকতে পারে।
১.ছ। একনলেজমেন্টঃ আপনার ল্যাব এসিস্টেন্ট, সহকারী, পরামর্শদাতা, আর্থিক সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এই অংশে উল্লেখ করুন।
১.জ। কনক্লুশনঃ রেজাল্টে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ন তথ্য এইখানে পয়েন্ট আকারে লিখুন। থিসিসে অনেক বড় করে লিখা থাকলে, সেখান থেকে কেটে ছেটে সংক্ষেপে দিন। অবশ্যি কিছু নিউমারিক রেজাল্ট থাকতে হবে, শুধু তুলনামূলক আলোচনা থাকলে চলবে না।
১.ঝ। রেফারেন্সঃ রেফারেন্স লিখার অনেক পদ্ধতি আছে। আপনি যে জার্নালে পাঠাবেন, সেখানে কোন পদ্ধতিতে লিখতে বলছে সে অনুযায়ী সাজান। যেমনঃ হার্ভার্ড, নাম্বারিং সিস্টেম। রেফারেন্স সাজানোর অনেক সফটওয়ার আছে, যেমনঃ END NOTE(http://www.endnote.com/ ), ProCite (http://www.procite.com/ ) ইত্যাদি। ইউটিউব থেকে এগুলোর ব্যবহারবিধি সহজে শিখতে পারবেন।


 কোথায় পাব্লিশ করবেন আপনার আর্টিকেল?
অনেক জার্নাল আছে, অনেক কনফারেন্স হচ্ছে প্রতি বছর আপনার বিষয়ে। কনফারেন্স পেপারের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই জার্নাল পেপারের মূল্য বেশি। সঠিক জার্নাল নির্বাচন আপনার পেপারকে দ্রুত পাব্লিশ করতে সহায়তা করে। শুরুতেই আপনার বিষয়ে কোন জার্নালগুলো ভালো, তা বুঝার জন্য আপনি যেসব পেপার সাইট করেছেন পেপারে, সেগুলো কোন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে তা দেখে নিন। ১০-১৫টি জার্নালের একটি তালিকা তৈরী করুন। এবার একটি করে জার্নাল সার্চ করে তার ওয়েবসাইটে গিয়ে ভালো করে নিচের তথ্যগুলো টুকে নিন।
ক. স্কোপ
খ. ইস্যু/ইয়ার
গ. ইম্প্যাক্ট ফেক্টর
ঘ. এডিটরের নাম ও ইমেইল ঠিকানা
এবার স্কোপ পড়ে নিশ্চিত হোন, কোন কোন জার্নাল আপনার বিষয়ের পেপার প্রকাশ করে। ইস্যু সুংখা প্রতি বছরে ৪ এর বেশি হলে বুঝবেন জার্নালটির প্রচুর পেপার দরকার হয়। এরমানে এদের সম্পাদনা ব্যবস্থা বেশ দ্রুত, আপনার লেখাটি প্রকাশ হবে কিনা তা দ্রুত জানাবে। কিছু জার্নাল ১ বছর পর এক্সেপ্ট করে, কিছু জার্নাল ৩মাস এর মধ্যেও এক্সেপ্ট করে। ১০দিনেও অনেক পেপার এক্সেপ্ট হয়েছে দেখা যায়। তাই পেপার সাবমিট করে ধৈর্য্য নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। স্কোপ নিয়ে কোন সন্দেহ থাকলে জার্নালের এডিটর বরাবর ইমেইল করে নিশ্চিত হতে পারেন (আপনার পেপারের টাইটেল ও এবস্ট্রাক্ট দিতে হবে)।
এরপরে আসে ইম্প্যাক্ট ফেক্টর। এটা আসলে বুঝায়, জার্নাল্টির পেপারগুলো কত বেশি অন্য পেপার দ্বারা সাইটেড হয়। উচ্চ ইম্প্যাক্টের জার্নালে পাব্লিশ করা কঠিন, কারন সেখানে লেখা পাব্লিশ করার জন্য অনেক পেপার এডিটরের কাছে আসে। কারন উচ্চ ইম্প্যাক্ট যুক্ত জার্নালে পাব্লিশ করা যেমন সম্মানের তেমনি এতে অনেক সাইটেশন পাবার সম্ভাবনা থাকে। ইম্প্যাক্ট ফেক্টর ৫ মানে, জার্নাল্টির প্রতিটি পেপার গড়ে ৫টি করে সাটেশন পায় প্রতি বছর। 
খেয়াল করে দেখবেন, অনেক জার্নালে পেপার পাব্লিশ করলে তারা লেখকের কাছ থেকে পাব্লিশ করার জন্য টাকা নিয়ে থাকে (৫০০-১০০০ডলার)। আবার অনেক জার্নালে ফ্রি পাব্লিশ করে। আপনার সংগতি বুঝে জার্নাল নির্ধারন করুন।
ISI ইন্ডেক্সড জার্নাল খুজতে পারেন http://science.thomsonreuters.com/cgi-bin/jrnlst/jloptions.cgi?PC=K
SCOPUS ইন্ডেক্সড জার্নাল খুজতে পারেন http://www.scopus.com/source/browse.url


কিভাবে পাঠাবেন আপনার পেপার?
অধিকাংশ জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক জার্নালে পেপার পাঠানোর অনলাইন সিস্টেম আছে, যেখানে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করে পেপারটির ফাইল আপ্লোড করতে হবে। আবার অনেক জার্নালে সোজাসুজি ইমেইল করলেই হয়। আপ্লোড করার আগে খেয়াল করে জার্নালের ‘অথার গাইডলাইন’ পড়ে পেপারটির ফরম্যাট করুন।
পাঠিয়ে দেবার আগে একটি কভার লেটার লিখুন, যেখানে ফরমালি এডিটর সাহেবকে আপনার পেপারটি পাব্লিশ করার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি দিবেন। অবশ্যই আপনার পুরো নাম ও ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্টের ঠিকানা ব্যবহার করবেন চিঠির শেষে। লেখা শেষ হলে খুব সতর্ক হয়ে লেখার ফ্লো, বর্ননার খুত, গ্রামারের ভুল-চুকগুলো শুধরে নিন। এরপর সাবমিট করে অপেক্ষা করুন রিভিয়ারের কমেন্টের।

লেখাটি সায়েন্টিফিক বাংলদেশে প্রকাশিত http://www.scientificbangladesh.com//details/?pid=170&cat_id=5

৭ জুল, ২০১১

সার্বজনীন হরতাল স্কেল

ভূমিকম্প মাপার স্কেল আছে। ফলে দুনিয়ার যেই চিপাতেই হোক আপ্নে ঘরে বৈসা টিভিতে শুইনা...ঝাক্কিডা আন্দাজ কর্তার্বেন। চার্লস রিখটার এই স্কেল বানাইছিলেন।

দুধের ভেজাল মাপ্তে ল্যাক্টোমিটার আছে। গোয়ালা যতই ফালাফালি করুক...ল্যাক্টোমিটার ডুবাইলেই কাহিনী পরিস্কার।

হরতালের কোন স্কেল নাই। তাই বিটিভি সারাজীবন ভ্যানভ্যান কর্তেই থাকবো "আজ হরতালে জনজীবন ছিল স্বাভাবিক। ব্যাংকগুলোতে লেন্দেন হয়েছে।" কথা সত্য। হরতালের দিনেই শুধু ঢাকার জীবন স্বাভাবিক থাকে। অন্যদিনগুলাতেই যা জ্যাম থাকে ...সেইটারে কোন ভাবেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বলা যায় না। আরেকদিকে বিরোধী সংবাদ মাধ্যমে থাকবে পুলিশের মাইরপিটের ছবি।

তাই হরতালে একটা পরিমাপক ইউনিট করা দর্কার। ব্যাপারটায় সায়েন্টিফিক জাস্টিফিকেশন আনার জন্য সিভিলের ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারদের সাহায্য নেয়া যাইতে পারে...ঢাকার গুরুত্বপূর্ন কিছু পয়েন্টে এভারেজ ট্রাফিক চেঞ্জ দেখে এইটা করা জাইতে পারে...সাথে আরো কিছু ফ্যাক্টর যোগ-বিয়োগ-গুন-ভাগ কৈরা সর্বজনীন হরতাল স্কেল সূত্রে ফেলায়া ১০ এর মদ্ধে নাম্বারিং করা যাইতে পারে।

বাস পুড়াইলে ১০ পয়েন্ট
টেম্পু জ্বালানো ৫ পয়েন্ট
রিক্সা ভাংলে ২ পয়েন্ট
পুলিশের মাথা ফাটাইলে বেশি পয়েন্ট
এছাড়াও আহত-নিহত এইসব ফ্যাক্টর দিয়া হিসাবটা পাকা করা লাগব।

তবে এই স্কেলের নামকরন নিয়া খালেদা হাসিনার মদ্ধে ব্যাপক কাজিয়ার সম্ভাবনা আছে।

পাঠক, আপনি কি হাস্তেছেন? আমরা এত অসুস্থ ক্যান?




২ মে, ২০১১

একজন দরিদ্র পোস্ট গ্রাজুয়েটের সবিনয় নিবেদন

লাস্ট কাপুলোভ ইয়ার্স বিদাশে থাকার কারনে আমার নানান কিসিমের ইমেইল করতে ও পড়তে হৈছে। (শুরুতে ইংরাজী না কৈলে পাব্লিক বিশ্বাস নাও খাইতে পারে...তাই লেখকের খুদ্র প্রয়াস)। তবে এই প্রবাস জীবণে আর যাই হোক ইংরাজির চেয়ে খাটি বাংলার চর্চা বেশী হৈছে। কারন অভ্র এস্তেমাল করে শুধু বাংলা টাইপিং না...সাথে যুক্ত হৈছে পথে ঘাটে ফরেন বালিকাদের প্রতি নানান মন্তব্য নিখাদ বাংলায় করার অভিজ্ঞতা। আধুনিক বাংলায় এইটারে নাকি এখন 'ইভ টিজিং' কয়।

যাহোক, দরিদ্র পোস্ট গ্রাজুয়েট জীবণের কিছু বাংলা ইমেইল দিয়া পাঠকের মনোরঞ্জেনের ইচ্ছা নিয়া শুরু করছিলাম...সেইখানে ফিরা আসি।

একদা ইউরোপে যাইবার জন্য মনে বড় টান আসছিল। এর মূলে আছে "ইউরো ট্রিপ" নামের একটা মুভি। এই থিকা আমরা কিছু নালায়েক...ইউরোপ যাবার জন্য চেষ্টা চরিত্র করতে লাগলাম। কোন এক বেওকুফ জানি জানাইলো...জার্মান দেশের দাউদ স্কলারশিপে ব্যাফক পৈসা...কিন্তু এরজন্য দরকার সৈয়দ মুজতবা আলীর মত জার্মান ভাষায় দক্ষতা। এরপরে দলে বলে ভর্তি হৈলাম...জার্মান কালচারাল সেন্টারে...গোঊঊঊথে ইনিস্টিটুট (ইনিস্টিটিউট না কৈলাম...হৈব... ট্টূট...খুব খিয়াল কৈরা)...দলে ছিলেন সাফফাত ভাই, ইয়াকুত, রাসেল ভাই, হের রানা, শামস এবং আরো কিছু ভেন্ডারজেক্স পিপাসু ভাই ও বৈনেরা। নানা ইউনিভার্সিটির প্রস্পেক্টাসে্র কভারে প্রস্পেক্টিভ ললনাদের সবুজ ঘাসে শুইয়া বসিয়া পড়িতে দেখিয়া শিহরিত হৈতাম। একে অপরকে দেইখাইয়া গা টিপাটিপি করিতাম।  কিন্তু আফসুস...জার্মানির রাস্তায় জিলাপি বেচা আর হৈল না আমার...চিয়ার বয় রাসেল ভাই নাচ দেখায়া স্ট্রিট শো কোইরা বেড়াইতে চাইছিলেন...হৈল না। এক-এক জন এক-এক মহাদেশে ছিটকায়া পড়লাম।

মাস্টার্স শেষ কোইরা আবারো নিশা চাপ্লো...এইবার পিএইচডিতে ইউরুপ যামু...বাপ চাচারা জতই মানা করুক...
তাই কতিপয় ইউরোপীয় ডিগ্রীধারী ভাই-ব্রাদারদের (স্রষ্টার বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট) ইমেইল করলামঃ

প্রিয় ভাইও, সাথীও,

আসসালামু আলালিকুম

আপনারা নিশচই অবগত আছেন, আমার প্রবাস জীবণের ১.৫ বছর অতিক্রান্ত হইতে চলিতেছে। ইতমধ্যে আমার মাষ্টার্সের কাজ প্রায় শেষের পথে। আশা করা যায়, মে ২০১০ এর মধ্যে থিসিস জমা দেয়া যাইবেক। এমতাবস্থায়, বিবাহ জরুরী হইয়া উঠিয়াছে। কিন্তু বিবাহের নিমিত্তেই পিএইচডির এডমিশন নেয়াও জরুরীতর হইয়া দেখা দিয়াছে। কেননা, বিবাহ বাজারে বেকার পোস্টগ্রাজুয়েটের মূল্য শুন্য...

আপনারা  আরো ।ইউরোপ আমার স্বপনে শয়নে আসিতেছে...অন্যদিকে GRE আসিতেছে দুঃস্বপ্নে। মশায়ের অবগতির জন্য জানাচ্চি, আমার অর্ধশত ব্লগ পোষ্টে জাহার খানে্ক হিটের পাশাপাশি কিছু বিজ্ঞান বিষয়ক ফ্লপ প্রবন্ধ রহিয়াছে, সুগুলো পাব্লিকেশন লিস্টে মেইলের সাথে বাধিয়া দেয়া হইল। অবগত আছেন যে, ইংরাজী ভাষা সাহিত্যে (GRE) আমার অরুচী প্রগাড়।
আপনাদের সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশী...

বাঙ্গাল

ফলাফল হৈল আরো হালি খানেক রিজেশন...ইউরোপের নানান প্রান্ত হৈতে...রিজেকশন লেটার গুলান বাংলায় তরজমা করলে দাড়ায়ঃ

সম্মানিত আহাম্মক, পিএইচডি কামলা পদে আবেদনকারীদের মধ্যে এইবার অনেক উচ্চমানের আহাম্মক ছিলেন...তাদের মধ্য থেকে খুব কম সংখ্যককে আমরা নিতে পারছি। সেইজন্য আমাগ মনে অনেক দুক্ষু! এইবারের জন্য ক্ষান্ত দেন, আগামীবার ভালো কিছু কৈরা আবার আইসেন...দেখবানে কি করা যায়। (ডু নট রিপ্লাই টু দিজ মেইল...ইনাফ এজ ইনাফ!)


হুম। বিধর্মী রাষ্ট্রে গিয়া ডিগ্রী অর্জনের সৌভাগ্য আর হৈয়া উঠলো না।

২৫ মার্চ, ২০১১

ঢাকায় থাকি

দেশ থেকে ঘুইরা আসলাম.....এয়ারপোর্টএ ব্যাপক কাজ কাম চলতেছে দেখলাম ...নুতন টাইলস, আলোক-সজ্জা, ফুলের গাছে ডেকোরেশন ...দেইখাই মন্ডা ভালো হইয়া গেল ...দেরিতে হইলেও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেয়া শুরু করছে ঢাকা ...

দিনাজপুর থিকা ঢাকায় আসার সময় বাস কাউন্টারে ঘন্টা খানেক অপেক্ষায় ছিলাম ..কাউন্টারের কোনায় একটা কালার টিভি ছিল...সময় সুজোগ বুইঝা টিভির রিমোট খান দখল নিয়া চ্যানেল ঘুরায়া দেশ টিভি দিলাম...খবর হইতেছে...শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ধৈরা পুলিশ বেধড়ক পিটাইতেছে..আর কোনো দেশে বিনিয়োগকারীদের পিটানো হয় কিনা জানা নাই... মাল মুহিত স্যাররে কথাডা জিগান দরকার...তেনার অনেক জ্ঞান...

তবে পুলিশের মাইর-পিটের খবর শেষ হইতেই একজন দাবি করলো...সে স্টার প্লাস দেখবে....বেশ মুরুব্বি লোক ...
আমি একটু বেয়াদপি কৈরাই রিমোট নিয়া বইসা থাকলাম..না শুনার  ভান ধইরা ...
কিছুক্ষণ বাদে আরেকজন কইলো...কি জানি একটা সিরিয়াল...এখন নাকি শুরু হইছে ..তাড়াতাড়ি সেই চ্যানেল দেন ..আমি রিমোট আগায়া দিয়া বললাম "আপনি চ্যানেল খুইজা দেখেন"...

সিরিয়াল শুরু হইলো...কিছুক্ষণের মধ্যে টিভির সামনে ভিড় একটু বাড়ল...সিরিয়ালটার মূল বিষয়ঃ কার জানি বিয়া হইতেছে...এর মধ্যে একই পরিবারের জনৈক কুটনা ও কুটনি চালবাজি কইরা বিয়াটা বন্ধ করার পায়তারা করতেছে...সিরিয়াল শেষ হওনের আগেই পাত্র পাত্রীরা এরপরের সিরিয়ালের হালকা একটা বিজ্ঞাপন দিয়া দিল...বাহ ...এই অভিনব বিজ্ঞাপনপন্থা দেইখা আমি টাসকি ...
একটা নাটক একজন লোক লেখে...তার ডায়ালগ সিকোয়েন্স সাজানো থাকে...এর মইধ্যে হুট কইরা যারা একটা বিজ্ঞাপনী সংলাপ ভইরা দিতে পারে...তাদের ব্যবসা সচেতনতা থাকলেও শিল্প সচেতনতা কতটুক আছে তা নিয়া আমার সন্দ হয়.

এইবার দেশে গিয়া আরেকটা অভিজ্ঞতা হৈছে রাস্তায় নাইমা... প্রথম কয়েকদিন কপাল গুনে গাড়ীওয়ালা বন্ধুদের কাছে লিফট পাইছি। কিন্তু একদিন আইজুদ্দিন আটকায়া পড়ল। ৯টার সময় খিলক্ষেত থিকা বাসের জন্য টিকিট কাইটা খাড়াইলাম। সাড়ে ৯টায় দেখালাম...আমার আশেপাশে একটা জন সমুদ্র তৈয়ার হোইছে...যা শুধুমাত্র উন্নত দেশে স্টেডিয়ামে দেখা যায়। আমার বাস আস্লো- চৈলাও গেল। লাইন হৈয়া গেল আকাবাকা। এরপরে আর কোন বাস থামলোই না। আমি বুঝলাম আজকাল দেশে সোজা আঙ্গুলে ঘি দূরের কথা, জ্যাম-জেলি কিছুই উঠে না। লাইন থুইয়া হাটা দিলাম। উত্তরাভিমুখে। ৩/৪ মিনিট পরে দেখলাম...আরো অনেকেই এইরম সামনে গিয়া খাড়ায়া আছে...ফুটপাতে মানুষ ভরা, তবে ভিড়টা পাতলা। আরো সামনে আগাইলাম। আগাইতে আগাইতে নিটোলের বিল্ডিং পর্যন্ত আইসা পড়লাম। এরপরে একটা বাস পাইলাম...কারে জানি নামাইতে একটু স্লো করছিল... হেল্পাররে একটা কুনি মাইরা উইঠা পড়লাম। ২ ঘন্টা পরে শাহবাগ। আহ! এই শহরের লোক গুলান কি ২ বছর পরের কোন চিন্তা মাথায় রাখে? জাপানের মত ভূমিকম্প (আল্লাহ না করুক) একটা ডান বাম দিয়া হোইলেও কি অবস্থা হৈব ভাইবা, পাব্লিকের লুঙ্গির গিট আলগা হোইয়া যাওয়া উচিত।

জাপান এখন

৮ জানু, ২০১১

টুট টূট 2010

২০১০ সালে আমার সবচেয়ে বড় আবিস্কার টুইটার। আমার টেকি জ্ঞানের বহর সম্পর্কে পাঠকের ঠাহর হাল্কা ধাক্কা খাইলো নাকি? বাংলাদেশে টূইটারের ব্রান্ড এম্বাসেডর @aminulahsan এর কাছে হাতেখড়ী হয় ২০১০ এর মে মাসে। তার ব্যাপক আগ্রহ...টুইটার জিনিস্টা নাকই জব্বর। আমার কাছে অবশ্য সেইরম মনে হইলো না। ১৪০ ক্যারেক্টারের মধ্যে চাইপা চুইপা লেখার অভ্যাস আমার কুঙ্কালেই ছিল না। ছুটুবেলায় মাস্টারে শিখাইছে বড় বড় ফাক ফাক কোইরা উত্তর দিতে। বাড়ায়ে ছাড়ায়ে লেখতে। কারন তাইলে নাকই লাম্বার বেশি পাওয়া যায়। আফসুস...আমি যা লেখি তাই এখন ১৪০ ছাড়ায়া গিয়া মাইনাসে চৈলা যায়...

তবে টুইটারকে বড় আবিস্কার ভাবার মূল কারন, টুইটার না, টুইটারের মানুষ গুলান। পুলাপাঙ্গুলান খুবি পাগলা কিসিমের। ২/৪ দিন কিছু টূট না করলেই এরা সমানে টূটুট গালি দেয়া শুরু করে। এদের টানেই (ঝাড়িতেই) কিছু টূট করা হোইছে গেল বছর। আজকের নোটটা তার সংকলন মাত্রঃ

২জুনঃ ক;ফেইসবুক আমারে কৈছে পাজামা(privacy settings) ঠিক কর্তে...আমি কৈছি "পারলে টান দিয়া দেখ!"
খঃ Another newspaper ban in Bangladesh! Youtube, facebook, daily newspaper...whatnext? blog-sites?

১৬ জুনঃ ক।ওরে ভিসি তুই কোন দল/ চল গিয়া দেখি ফুটবল

১৯ জুনঃ তুমার ভালোবাসা রাইখো ফ্রিজে, ঘৃনাগুলান ওভেনে/ গভীর রাইতে ফিরমু আমি, তুমার প্রেমের গহীনে।

৩ জুলাইঃ Maradona Starts match preparation by scolding referees..damn smart. #worldcup will lose remaining 50% attractions without him. Love u man!

৮ জুলাইঃ ATNবাংলা যদি মূসা ইব্রাহীমরে স্পন্সর কর্ত তাইলে পেপারে খবর আসত "বাংলাদেশী তরূনের 'ইভা'রেস্ট জয়"!
 How many mountains must a man climb down, before you call him a Musa Ibrahim!#Bangladesh#Prothomalo

খিদা লাগছে...হনারেবল হাইকোর্ট...আমারে কিছু মামলা দেন...খাই।
২৬ আগস্টঃ সংবিধানটা পেন্সিল দিয়া লেখা উচিত ছিল...তাইলে বারে বারে কাটাকুটি করা লাগতো না...স্যাপ দিয়া ডৈলা লৈলেই হৈত।

দেশের সেমি নির্র্বোধ তরুণ সম্প্রদায় নিয়া আমি খুবই হতাশ #YabaGeneration


২৭ আগস্টঃকাজী নজরুল বাইচা থাকলে টুইট কইরা ভাসায়া ফেলতেন..কারণ উনারতো কাগজ কলম কিনার পয়সা থাকত না, মোবাইলে টুইট করতেন খালি:D

১ সেপ্টেম্বরঃ দেশে নুতন গাড়ি কিনা আর নুতন বিয়া করা একই...দুইটাই রিকন্ডিশন্দ #লিটনেরফ্লাট_জেনারেশন

৩ সেপ্টেম্বরঃ Greatest Science Fiction Writer of this Godless Universe #Stephen Hawking

গরিব হওয়ার অনেক জ্বালা- জসিম #GoriberPrem

৪ সেপ্টেম্বরঃ রাজীব তুই একটা ছোটলোক-অপূর্ব/অপূর্ব তুই একটা বেইমান -রাজীব/প্রভা ভিডিওটা চাইরা ভালা করলা না -রাজীব #MathaNosToMaaN

৮ সেপ্টেম্বরঃ বাসার সামনের মাঠে খেইলা অর্র্জেন্তিনা যে ফাল দিছে, তাতে তাগো একটা ওয়ার্র্ল্ড কাপ না দিলেই না ....#শ্রমের_মর্যাদা

১০ সেপ্টেম্ম্বরঃ #Obama said "Quran burning is destructive",Indeed! bcz its the nature of burning!

১৫ সেপ্টেম্ম্বরঃঢাকাবাসীর এখন খাটের তলায় ঘুমানো উচিত।#Earthquake #Again&Again

১৬সেপ্টেম্ম্বরঃদুপুরের ঘুম ঠেকানো যায় না, আর রাতের বেলায় সে আসে না ...ঘুম: তুই বড় লস্কর

২৪ সেপ্টেম্বরঃ How many chat box must a man open, before u call him bachelor? #JatiBIYApagla

২৯ সেপ্টেম্বরঃপাবনার ডিসি, এসপি, ওসিকে দৃষ্টান্ত মূলক শান্স্তি দেয়া হোক...কত্ত বড় সাহস ছাত্রলীগের হাতে মাইর খায়া আবার কান্নাকাটি করে

১৪ অক্টবরঃ শ্যাকিব তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি টিভির সামনে

২০ অক্টবরঃ -বদি, তোমার কি ভয় কর্তেছে? # ছি ছিঃ আমার ভয় কর্বে ক্যান বাকের ভাই?

৮ নভেম্বরঃ আগে মেম্বার চেয়ারম্যানের ভাস্তারা রেইপ করত, এখন ইভ টিজিং করে #DigitalPREM

ট্রানজিট নিয়া বিএনপির ধর্ফরানি দেইখা গন্ডারের কাতুকুতির গল্পটা ইয়াদ আসল #JatirGhumVangse

১৪ নভেম্বরঃ দেশের রাজনীতিতে মাথায় সক্রিয় মগজযুক্ত প্রাণীর বড় অভাব

১৪ নভেম্বরঃ গরু আগামীকালের হরতালের আওতামুক্ত থাকবে, কারণ বিএনপি একটি গরুবান্ধব রাজনৈতিক দল

১৫ নভেম্বরঃ Iawami-Service Public Relations Directorate (ISPR)

১৭ নভেম্বরঃPrince William has given his fiancee Kate Middleton his late mother Diana's sapphire and diamond engagement ring #rajaBadsharPREM

১৯ নভেম্বরঃ#DontAskDontTell that u r a gay. Just do the job in #USArmy.Kill some innocent bloody civilian in #Afghanistan #Iraq #Pakistan.#Senate

১৭ ডিসেম্বরঃদুনিয়ার সকল পোস্ট গ্রাজুয়েটের একমাত্র কমন বিনোদন...সুপারভাইজারকে গালি দেয়া #bangal

২২ ডিসেম্বরঃ WikiLeaks cables: US pushed for reopening of Bangladesh coal mine http://t.co/KTdPb26 via @guardian

এছাড়া অনেক মজার মজার টুট পেইছি। ফেইসবুকবাসিদের জন্য কিছু শেয়ার করতেছি।

by palashmustafiz:  "জাতীয় পার্টি দেশে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়েছে": এরশাদ..http://bit.ly/d5UKWq .Hit me in my ass so i can stop laughing.

by NaomiAKlein Rape is being used in the #Assange prosecution in the same way that women's freedom was used to invade Afghanistan. Wake up! #wikilieaks

by sifat2188 porikkhar khatay 140 character er besi lekte issa kore na :s #twitter #fb

সেরা ট্রেন্ডজ ছিল #mathaNOSTOmaaan #ProvabitoJati (প্রভা স্ক্যান্ডালের সময় চলছে) #JatiJanteChay

২৯ নভে, ২০১০

বাঙ্গালের দোষ, তার পাসপোর্ট

১. দেশে এখন রাজনীতির হওয়া বেশ গরম ...ঢাকায় ২৬ নভেম্বরে গিয়েছিলাম...
রাস্তায় হরতালের চেয়ে হরতাল বিরোধী প্রচারনাই বেশি...বাসের গায়ে পোস্টার...ব্যানার...সব হরতালবিরোধী ...শুধু পত্রিকায় হরতালের ডাক পাওয়া যায়... বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেন ক্রিয়ার চেয়ে প্রতিক্রিয়ায় বেশি ...বাড়ি গেল একজনের...গাড়ি পুড়ল কত জনের ....কারণ হরতাল পালন করাটা সহজ ...একটা প্রেসব্রিফিং দিলেই হলো...কিন্তু হরতাল ঠেকানটা কঠিন...যেটার চেষ্টা সরকারী দল প্রতিবার করে...কিন্তু হিতে বিপরীত হয়...


মজা পেলাম..বনানী মোড়ের দুইটা জিনিস দেখে...একটা হলো ঘড়ি বিক্রেতা...ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি বেচতেছে...বালতির পানিতে ঘড়িগুলো চুবিয়ে রাখা ...সত্যি ওয়াটার প্রেফ...তার চাক্ষুস প্রমান...
আরেকটা মজার জিনিস হলো ...সম্মিলিত ইসলামিক জোটের পোস্টার...সেখানে হেডিং দেয়া "দেশবাসী সাবধান , খালেদা জিয়া মদ খান"...সাথে একটা ছবি... সাদা কালো ...খালেদাজিয়ার হাতে কাচের পাত্র..তাতে কালো পানি..পাশের চেয়ারে একজন পুরুষ ...সুট কোট পড়া...  উনার হাত চিয়ার্র্স করার ভঙ্গিমায় তোলা...খুবই আনাড়ি ফটোশপের কাজ ..লোকজন ভীড় করে দেখছে..


মদ খাওয়া কাজটা মোটেও মারাত্মক মাত্রার খারাপ না...কারণ যে মদ খায়...সে নিজের পয়সায় খায় ..বরং এরচেয়ে হরতাল অনেক বড় মাত্রার অপরাধ...কারণ সে দেশের ক্ষতি করে ...কিন্তু ভদ্রসমাজে "আমি মদ খাই".. বললে ছি: ছি: রব উঠলেও...আমি হরতালে ভাংচুর করি বললে...কেউ  নাক সিটকায় না 


-----------------------------------------------------------------------------
২. পরদিন ২৭ নভেম্বরে আমার ফ্লাইট ছিল...রাত ১১:৩০এ   যখন LCCT Airport, Kuala Lumpur এ নামলাম, তখন কানে ভনভন...খিদাও পাইছে বেশ...
এই এয়ারপোর্টটা আমার চেনা..অনেকবার এসেছি...তাড়াতাড়ি চলে আসলাম ইমিগ্রেশনের কাউন্টারে ...কিন্তু বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের আলাদা লাইন করতে বলা হলো...
মাথায় চুল ছোটো  করে ছাটা একজন অফিসার এসে বাংলায় জিজ্ঞাসা করলো "বাংলা?...সিনি সিনি(মালে ভাষা ) ...এদিকে এদিকে "
ইমিগ্রেশন কাউন্টার থেকে দুরে দার করানো হলো ৩০-৩৫জোন বাংলাদেশীকে ...যারা ফ্যামিলি নিয়ে এসেছেন.. তাদের যেতে দেয়া হলো ...বাঙালি মহিলাদেরকেও সোজা ইমিগ্রেশন কাউন্টারে পাঠানো হলো ...সাদা কামরার একটা মেয়ে এসে কিছুক্ষণ আমাদের লাইনের আসে পাশে বিভ্রান্ত হয়ে ঘোরল..সেও ঠিক বুঝতে পারছে না...এদিকে এই আলাদা লাইনের কারণ কি ..একজন মহিলা অফিসার ব্যস্ত হয়ে মেয়েটাকে বুঝিয়ে দিল...তার স্থান এখানে না...এটা বাংলাদেশীদের স্পেশাল লাইন
আমি এগিয়ে গিয়ে পরিচয় দেই না ..."আমি একজন ছাত্র...ওয়ার্রকার না"...কারণ ওরাতো পরিচয় জানতে চায় নি ...তাদের একটাই বিভাজন "বাংলা?"
আমাদের সবুজ পাস্পর্র্ট দেখেও ওরা নিশ্চিত হয় না ...কারণ পাসপোর্ট বানানোর হাজার কৌসল আমরা অনেক আগেই দেখিয়েছি ...হাজারখানেক অবৈধ শ্রমিক এখনো মালেশিয়ার রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়...পুলিশ দেখলে ঘুষ দেয়...রাতের বেলা বাজার করে ...কবে একটা চাকরি পাবে - বৈধ ওয়ার্র্ক পারমিট পাবে সেই আশায় ...

চাপ দাড়িওয়ালা একজন বাংলাদেশী যুবক এগিয়ে গিয়ে অফিসারের কাছে জানায় তার পরিচয়...তার উচ্চারণে ব্রিটিশ ঝাজ ...পেছন থেকে কে যেন বলে "লাভ নাই মামা ...হালারা ইংরাজি বুঝে না"

 
কিছুক্ষণ পরে সেও অপ্রস্তুত হয়ে লাইনের পিছনে দাড়ায় ...কয়েকজন লাইনে সামনে যাবার জন্য ফাক ফোকর খোজে ...আমি দাড়িয়ে থাকি ..পিঠের ৭কেজি বোঝাটা নামিয়ে রাখি ..২০-২৫ মিনিট পরে...৪/৫  জন মালেশিয়ান অফিসার(২ জন মহিলা )...আমাদের লাইন ধরে হটিয়ে নিয়ে যায়...দূরে একটা করিডরে...চিপা...করিডরে ঘন হয়ে দাড়ায় সবাই...সবাই কম বেশি বিরক্ত ...আমিও ...
আমি এইজন্য  বিরক্ত না...যে আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র, বাংলাদেশে অন্যতম সেরা একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ছাত্র ...আমাকে এভাবে অবৈধ শ্রমিকদের মত সন্দেহ করার জন্য আমি বিরক্ত না  ...কারণ ওই শ্রমিকরা আমার গ্রামের মত একটা গ্রাম থেকেই এসেছে ...

আমি বিরক্ত হই...যখন ওরা অশুদ্ধ বাংলায় বলে "পাস্পর্র্ট দাও"...একটা কাগজের কার্টুনে সবাইকে পাস্পর্র্ট রাখার  ইঙ্গিত  করে
আমি এগিয়ে গিয়ে বলি "ইংলিশ প্লিজ"...এবারে খাটি মালে ভাষায় উত্তর আসে "পাস্পর্র্ট সিনি"...হাত বাড়িয়ে কার্র্তুনটা সামনে ধরে ...টিকিট বোর্ডিং পাস সহ বাক্সে ফেলে দেই...
গাট্টাগোত্তা অফিসার আবার মালে ভাষায় জানায় "পাস্পর্র্ট সাহাজা"...(সাহাজা মানে অনলি)..আমি ভ্রু কুচকে না বুঝার ভান করে বলি "হোয়াট?"
আমার  বোর্ডিং পাস আর টিকিট বাক্স থেকে তুলে বাড়িয়ে দেয়.... খুবই বিরক্তভাবে
 
সবার পাসপোর্ট জমা হবার পর...ছোটো করিডরে সবাইকে লাইনে  দাড় করে...আবার লাইনে সামনে যাবার একটা হালকা  হুরাহুরি ...মহিলা অফিসাররা মাঝরাতের এই নাটকে  বেশ মজা পায় ...তারা  হাসা  হাসি  করে
গাট্টা গোত্তা অফিসার এবার হুকুম করে "বসো বসো (বাংলায়...যেন বাঙালিরা এটুকু ইংরেজিও জানে না ..তাই বাংলা শিখেই এরা  এসেছে তারা)"...দুই হাত নেড়ে বুঝলো মাটিতে বসতে হবে
লোকজনের   মধ্যে   চাপা   গুঞ্জন ...ও চরম  বিরক্তি  ...কে জানি  বাংলায় "হালার  পুত " টাইপ  একটা গালি  দিল..আমার কানের ভনভন আওয়াজটা মনে হয় আরো বেড়ে গিয়েছিল...পরিস্কার শুনতে পাই নাই ...অনিচ্ছা স্বত্তেও একে একে সবাই বসলো ...মাটিতে ...আমিও 


কম বয়সী  মহিলা অফিসাররা ...একে অপরের গাটিপে হাসে  ...যেন নাটকের  এই অংশে  তাদের বড্ড  মজা 

এরপরে একে একে দেকে পাস্পর্র্ট পরীক্ষা করে প্রায় সবাইকেই ছেড়ে দিল ...সোজা ইমিগ্রেশন কাউন্টারে ...গিয়ে আবার চেকিং


এইরকম ছোটো  খাটো (!) বঞ্চনা প্রবাসে মেনে নেয়ায় যেতে পারে ...কারণ এটা ওদের দেশ ...নিজের দেশে নিরাপত্তার খাতিরে ওরা যেকোনো পদক্ষেপ নিতেই পারে
আর আমরা বাংলাদেশী ...আমাদের নিজেদের কোনো মান ইজ্জ্বত নাই ..নেংটি খুলে যাক তবু ..নেত্রীর মান ইজ্জ্বতে আঘাত আসলে আমরাদের লড়াইয়ে  নামতে  হবে  ....নিজেদের ধংস করার নেশায় পাইছে আমাদের ... শরম 

কিসের? আমরাত নিজের দেশটাকে অতল কোন বালতিতে চুবিয়ে রাখছি...প্রমান করেছি আমরা শরম-লজ্জাপ্রুফ...
 

১৫ নভে, ২০১০

রাষ্ট্রযন্ত্রের স্ক্রু ঢিলা

দেশে আচমকা কেওয়াজ লাইগা যাওয়ায় একটু ঘন ঘন টিভি দেখতেছিলাম...গ্রামে থাকার কারণে শুধু মাত্র খাস বিটিভি সংবাদ দেখতেছিলাম. গতকাল দুপুর ২টায় আমি যখন ইন্টারনেটে খালেদা জিয়ার বাড়ি ছাড়া নিয়া কেঅয়াজের খবর পড়ি...তখন বিটিভি সংবাদে প্রচার করছে "খালেদা জিয়া স্বেচ্ছায় তার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেন" বরাত আইএসপিআর ...নামটা কি চিনা চিনা লাগলো পাঠকের? জ্বী, এক সময় এই আইএসপিআর এর খবর রেগুলার টিভিতে দেখছেন. পিলখানার ঘটনায়. আইএসপিআর বিডিয়ারের ঘটনাতেও পাক্কা তিন দিন মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করছে ...সুতরাং এই সরকারের আমলে তাদের হাচা কথা বলার রেইট প্রায় শুন্যের কাছাকাছি.

বাসা খালি কইরা তারা বলল ..."বাসাটি এখন পুলিশের হেফাজতে আছে"...ক্যান বাবা? ক্যান্তন্মেন্তের ভিতরের বাসা পুলিশ হেফাজত করব ক্যান ? আবার কিছুক্ষণ পরে...জানা গেল..বাসার ভিতরে সাদা পোশাকে সামরিক বাহিনীর লোকজনই পাহারা দিতেছে.. ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বাড়ির নিয়ন্ত্রণে আছে... এই কথাডা কইতে এত শরমের কি আছে?

এরপরে আসলো খালেদা জিয়া কান্না ভরা প্রেস কনফারেন্স. পাবলিকের মনে প্রশ্ন: এইটা কি আসল কান্না? 
বাংলাদেশের এমন কোনো মেয়ে নাই ...যে একটা বাড়ি(ঢাকা শহরের সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গায়) হারানো সহজে মাইনা নিতে পারবে...তার যতগুলান বাড়িই থাক ...সুতরাং খালেদা জিয়া হঠাত উদার হইয়া সুরসুর করে বাড়ি ছাইড়া দিবে ...তারে নিয়া আমি এইরকম উচ্চাশা করি না ..আফটার অল আমি নিজের দেশের মা-বোনদের অন্তত চিনি ...৩৮ বছরের ব্যবহৃত বাড়ি ফেলায়া আইসা কানবো না এইরম বাংলাদেশী  মাইয়া আমি কল্পনাও করতে পারি না

গতকাল যে নাটক ক্যান্টনমেন্ট মঞ্চায়িত হৈছিল, তা ছিল পুরাপুরি সামরিক বাহিনীর "রাজনীতি মুক্ত" থাকার প্রয়াসের সফল প্রতিফলন...সে জন্য আইএসপিআর মিথ্যা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে...আর তাদের দোসর "ব্যাপকমাত্রায় স্বাধীনতা ভোগকারী" পত্রপত্রিকা তা ফলাও করে প্রচার করে...তারা তিনটা বেসামরিক ট্রাক সাজায় রাখছিল বাড়ির সামনে...এটাও নাটকের একটা অংশ...আমি খুব খুশি হইতাম ...যদি বাংলা ভাই ধরার মত ...টিভিতে লাইভ টেলিকাস্ট করত... কিন্তু আফসোস ...আজ ক্যান্টনমেন্টের কোনো টিভি ক্যামেরাও যেতে দেয়নি সেনাবাহিনীর কড়া সামরিক প্রহরা... কারণ ওনাদের ভয়... এই ব্যাপক গণতান্ত্রিক সরকারের পোশাকের আড়ালে যদি সামরিক উর্দিটা ধরা পরে যায় আম জনতার চোখে

আমার আফসোস বেশিক্ষণ করা লাগে নাই, উচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টা পর আইএসপিআরের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের নেয়া হয় সে বাড়িতে। দরজায় শাবলের চিন্হ রং-পট্টি মাইরাও মুছা যায় নাই... তবে সবচেয়ে বড় রগড় দিছেন তারা বিটিভির রাতের সংবাদে "খালেদার বাসা থেকে পর্ন  ম্যাগাজিন পাওয়া গেছে তা দেখাইল ".আইএসপিআর চরম খেলা দেখাইছে..জাতি ব্যাপক বিনোদিত ..ভিডিও দেখাইছে.
আমি এইটাও মাইনা নিতে পারি...ঐসব পাইতেই পারে ..সেনাবাহিনিত অনেক কিছুই পাইছিল "আধা সামরিক কাম তত্বাবধায়ক সরকার আমলে...ভিআইপিদের বাড়ির বাথরুমে বিদেশী শাড়ি, মদ, অস্ত্র ...তেনারা এইসব পাইতেই পারেন...অভ্যাস যায় নাই... সবকিছুর পরেও এইটা ছিল একটা বাসা ...মসজিদতো না? এইটা বিটিভিতে সারা দেশের ছোট-বড় সবার সামনে প্রচার করার মত মানসিকতা সরকারী দল ক্যান দেখাইল? ধরা যাক, উনার বাসায় দুইটা কনডম পাওয়া গেল...এখন সেনাবাহানীর দুইজন সোলজার কি সেইটা বিটিভির ক্যামেরার সামনে নাইরা চাইরা দেখানো উচিত?

এখন আসা যাক এই ঘটনার সুদুর প্রসারী খতরনাক প্রতিক্রিয়ায়

১. আজকে যেই আইএসপিআর সরকারের কথায় মিছা কথা কৈতেছে ...বিটিভির সাথে তাদের পার্র্থক্য় কি থাকলো?......এইখান থিকা তার রাজনৈতিক অভিযাত্রা শুরু হৈল...কালকে যেই গদিতে বসবে...সেই আইএসপিআর এর মাইক ভাড়া করবে প্রচার প্রপাগান্ডার কাজে ... জনগনের চক্ষেও তার রং ৫ বছর পর পর পাল্টাবে...সেনাবাহিনীর ভিতরেও এর প্রভাব ব্যাপক ক্রমিক পালাবদল তৈয়ার করবে.   পিলখানা-রূপগঞ্জের পরে, খালেদার উচ্ছেদ অভিযান সেনাবাহিনীকে আবারো কলঙ্কিত করলো

২. খালেদার সাথে সাথে তার পোলা দুইটাও নিশ্চিত কানতেছে আজকে ...যেকোনো সন্তান তার মায়ের অপমানের প্রতিশোধ নিবেই...যদি তার সেই ক্ষমতা থাকে ..তা সে যত বড় কুসন্তানি হোক .আজ হোক কাল হোক...এরা ক্ষমতায় আসবেই ..এবং এই অপমানের প্রতিশোধ নিবে (এদের নিয়েও আমার কোনো উচ্চাশা নাই ...এরা জিয়ার পুত্র হইতে পারে...কিন্তু জিয়া না)..এই প্রতিশোধের ভাষা গ্রেনেড কিংবা বন্দুকের গুলিও হইতে পারে ..ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটা বুলডোজার দিয়া গুরায়াও দিতে পারে ...২ বছরের সেনাশাসনের পরে এখন সবাই বুইঝা গেছে ক্যামনে আদালত চালাইতে হয়, আইএসপিআররের মাইক ভাড়া করতে হয়, পত্রিকাওয়ালাদের খামোশ রাখতে হয় (দেশে বিরোধীদলের পত্রিকা, টিভি ওয়েব্সিত সহ প্রায় হাফডজন প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে নানা উছিলায়...শুরুটা একুশে টিভি থিকা) ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসাটা জন্ম লগ্ন থিকা বাংলাদেশের রাজনীতির একটা স্বাক্ষী ...এই বাসাটারে এইভাবে হুমকির  মুখে ফেলাটা ভালো হয় নাই...সেই সাথে ক্যান্টনমেন্টের বাসাটাও একটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে..৭ই নভেম্বরে এই বাসা থেকেই মুক্তি হন ... সেনাপ্রধান হওয়ার পরও এ বাড়িতেই ছিলেন জিয়াউর রহমান। এ বাড়িটি ছেড়ে সেনাপ্রধানের জন্য নির্ধারিত বাড়িতে যান নাই।৯০ এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে একাধিকবার এই বাড়িতে গৃহবন্দী ছিলেন খালেদা জিয়া.....উচ্ছেদ করছে ভালো কথা...কিন্তু বাসাতারে সংরক্ষণ করা জিতে পারত...এইখানেই ক্যান পুনর্বাসন করতে হবে...সেনাবাহিনীর কি জাগার অভাব?  

৩. দেশের সহিংস রাজনীতির আগুনে আরেকটু ঘি দেয়া হইলো...জার ফলাফল ঈদের আগে আজকে একটা হরতাল পাইল দেশবাসী...সামনে আরো পাবে অথচ দুইটা দলের মূল সুরে কোনো পার্র্থক্ক নাই ..উদ্দেশ এক ...গন্তব্য এক ...গদি...জনগণ তাদের সেইটা বাই টার্নস দিতেছে...তারপরেও ক্যান এত দাঙ্গা ফ্যাসাদ ...এরা কি একটু শান্তিতে থাকতে দিবনা?
৪. শেখ হাসিনাকে গণভবন আর খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি চিরস্থায়ী ভাবে দিয়ে না দিলে এই দেশে আর শান্তি আসবে না...দেশের শান্তি এই দুইটা বাড়ির সাথে জড়িত ...আমরা কি পারি না ..তাদের বাড়ি দুইটা দিয়া দিতে? বাপ, তোরা বাড়ি দুইটা নে, আর আমাগো একটু শান্তিতে থাকবার দে...কারেন্ট নাই, গ্যাস নাই, রাস্তায় জ্যাম, জীবনের নিশ্চয়তা নাই ...এলা একটু ক্ষান্ত দে!
৫. কিন্তু না, চলছে  চলবে    

ব্লগ থেকে পাওয়া বাড়ির ভিতরের ছবি...পাগলেও জানে এই ম্যাগাজিন ও মদের বোতল প্লান্ট করা হইছে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থদের বুদ্ধিতে