১১ জুল, ২০১০

হারবিচ্চারে তোবা কৈরা বল খেলাডা চাড়!

ফুটবল আমার বেলাডে। যদিও খেলাডা আমি সেরাম পারি না...কারন দৌড়াইলে ক্লান্ত লাগে। কিন্তু আমি ছিলাম এককালের মাঠ কাপানো---ম্যানেজার। অনেকে ভাবতে পারেন, ম্যানেজার মাঠ কাপায় ক্যাম্নে ...মাঠতো কাপায় খেলোয়াড় ...মানে স্ট্রাইকার, গুল্কি...হালে "রেফ্রি"...এরা।

হেহে। মিয়া ...কাপাইতে জানলে মাঠের বাইরে থিকাও কাপান যায়। মাঠে আমার পজিশন ছিল...সাইড লাইন বরাবর। উইং ব্যাকের মতো আমি মাঝে মাঝেই চিল্লাইতে চিল্লাইতে উপরে উইঠা জাইতাম...আবার লাইন ধইরা নিচে নাইমা আসতাম। আমার সাফল্য সেরাম। প্রথম বারেই আমি আমার দলরে ফাইনালে পৌছায়া দিছি। ফাইনালে কি কর্ছি সেইটা পরে বলতেছি...উত্তেজিত হইয়েন না, পাঠক।

আগে বৈলা রাখি। এইটা কৈলাম ১০০% সত্যি ঘটনা। আমার হল ফুটবল টিমের পারফরমেন্স মারাত্মক। ১২ বছরে কিছুই জিতে নাই। মাঝে মাঝেই ১১ জনের টীমে শর্ট পরে খেলোয়াড়ের। তো রেগুলার প্লেয়ার হিসাবে আমার রুমমেটকে দেয়া হৈছিল ক্যাপ্তানের দ্বায়িত্ব। সে দ্বায়িত্ব ঘাড়ে নিয়া রুমে আসল বেনসন হাতে লোইয়া। কয় "দোস্ত...বিড়ি খাওয়া এইমাসে ছাইড়া দেওন লাগবো রে...দম বাড়াইতে হোইব"।
-ক্যান দুস্ত?
- ফুটবল খেলা লাগবো...আমি কাপ্তান...তুই ম্যানেজার হবি?
- আলবত। আমিতো খুবি ভাল পারমু কাজটা...যদিও আগে করি নাই।
কাপ্তান মাথা নাড়ায়..."তোর কিছুই করা লাগবো না। তুই খালি সাথে থাক। পোলাপান জোগাড় কর...আমাগো হল টীমে ১১ জন প্লেয়ারি হয় না। আর কাজ বেশি দিনের না...ফাস্ট রাউন্ড পর্যন্ত। তোরে ম্যানেজার নিলাম...কারন কোন শালা খেলার আগের মূহূর্তে ফোন অফ কৈরা ডুব দিলে তোর খেলা লাগব"।
আমার হাড্ডির জয়েন্ট গুলা পটপট কৈরা ফুটা শুরু কর্ল... ভয়ে। ফুটবল খুবি রিস্কি খেলা...তাছাড়া আমার আবার হাড্ডিতে ক্যালসিয়াম কম।

নাইমা পড়লাম প্লেয়ার সংগ্রহে...রাইতে ডাইনিঙ্গে টেবিলে পোস্টার দিলাম...ইতং বিতং...কি লিখছিলাম মনে নাই...কিন্তু খাতা ভৈরা গেল আগ্রহীদের নামে। কাপ্তান রুমমেটরে আইসা রিপোর্ট দিলাম। সে পাশ ফিরা শুইয়া কোইল...
"ভালো...কিন্তু প্রথম ম্যাচ হারার পরে ২য় ম্যাচে কয়জন আইবো...সেইটাই দেখার বিষয়"।
ব্যাপারটা মাথায় ছিলো না। বুয়েটের ছেলেরা হারতে পছন্দ করে না। এরা রণেভংগ দিয়া পালাবে...কিন্তু পরাজয় মানি নিবে না। যাহোক এইবার সিনিয়র ধরতে বাইর হোইলাম। বুয়েট মাঠের পিরামিড ...পারভেজ ভাই আর মধ্য মাঠের কুশলী খেলোয়ার নাহিদ ভাইকে খেলানোর জন্য এদিক উদিক ফুন লাগাইলাম। তেনারা খেলবেন...রাজি হৈলেন।

নাইমা গেলাম প্রস্তুতিতে। প্রস্তুতির চেয়ে বিকালে হলের ফান্ড থিকা ১০টাকা নাস্তাই বেশি ভালো লাগত আমার।

যাহোক, প্রথম ম্যাচ পড়লো গেলবারের চ্যাম্পিয়নদের সাথে। ক্যান...দূর্বল দলকে প্রথম ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নদের সাথে খেলতে দেয়া হয়...এইটা আমার মাথায় আসে না। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ হওয়া উচিত এক্স-চ্যাম্পিয়ন ভার্সেস এক্স-রানার আপ। তাইলে টুর্নামেন্টের শুরুতেই একটা চাঙ্গা ভাব চৈলা আসত। আমি ডিএসডাব্লিউ অফিসে গিয়া এই "সুক্ষু ষড়যন্ত্রের" মামলা করমু কিনা ভাবতাছিলাম...লুঙ্গি ছাইড়া প্যান্টো পড়ছিলাম, কিন্তু কাপ্তান আইসা আমারে থামাইলো। কয় এইটাই নাকি "ইন্টারন্যাশ্নাল প্রাক্টিস"। আজিব। সারা দুনিয়াতেই খালি শোষন...দূর্বলরে চড়ায় সবল।

যথা সম্ভব প্রস্তুতি নিয়া প্রথম ম্যাচে নাম্লাম। মানে টীম নামাইলাম। প্রথমার্ধে ফরমেশন ছিল ৯-০-০।মানে সবাই মিলা ডিফেন্স...এক্সেপ্ট পারভেজ ভাই। স্ট্রাইকার পারভেজ ভাই কিন্তু যেনতেন স্ট্রাইকার নন। দূরপাল্লা শটের সাথে তার ছিল ধাক্কায়া ডিফেন্স ভাঙ্গার ক্ষমতা। দূর থেকে তারে পাস দিয়া বল দিতে পারলেই হৈল...আর কাজ নাই।কিছু একটা হৈবই। তিনি হতাশ করেন নাই। হতাশ করে নাই ডিফেন্স। তাগো প্রধান কাজ ছিল...গেঞ্জি মুচড়ায়া ধৈরা রাখা, আর স্ট্রাইকাররে ২/৩বার মাটিতে ফেলায়া দিয়া দম বাইর কৈরা দেয়া। বুয়েট মাঠের এই স্ট্যাটেজি মধ্য মাঠের নাহিদ ভাইয়ের। আমি বরাবরই গান্ধিজী স্টাইলের ফুটবল প্রমোট করছি...অহিংস এবং রক্ষনাত্নক।

আমাদের স্ট্যাটেজি প্রথম ম্যাচে কাজে লাগ্লো। ১-০ গোলে চ্যাম্পিয়ন নজরুল হলকে হারায়া দিলাম। গোল্টা কর্ছিল পারভেজ ভাই।

আজকে আর লেখতে মন চাইতেছে না। শুধু ফাইনালের রেজাল্টটা জানায়া রাখি। ১-০ তে শোচনীয় ভাবে হাইরা গেছিলাম আমরা। অনেকেই ভাবতে পারে ৯০ মিনিটের খেলায় ১-০তে হারকে শুচনীয় বলোনটা ঠিক না। কিন্তু আসল কাহিনী হৈল ৯০ মিনিটে খেলা গোল শুন্য ড্র ছিল। এক্সটা ৩০ মিনিটেও গোল শুন্য। ট্রাইবেকারে...ফলাফল ১-০। না পাঠক। ভূল দেখেন নাই। আমার দল ৫টাই মিস করছিল, আর শেরেবাংলা হল ৪টা।

ওয়ার্ল্ড কাপের স্ট্যাটাস সংকলন পোষ্ট
পাদুকা-গোলক লৈ বেহুদা বাহাসে কাম নাই/ ১মাস পরে দেখপা *** ছাড়া আর কারো নাম নাই!

৮ জুন, ২০১০

ফেইসবুক ও পাঠকের শক্তি


ফেইসবুকে লেখালেখির শুরু কর্ছিলাম সেপ্টেম্বর ২০০৮ এ। আজকে ২০১০ এর জুন। আজকের নোটটা ৮৭ তম। শুরুটা ছিল এক্কেবারেই ঘরোয়া প্রবাস জীবনের রান্না বান্না-কান্না, ভ্রমণ- জীবণ দিয়ে। কিন্তু পরে আর লেখালেখি রান্না ঘরে থাকতে পারে নাই। কারন মাঝে অনেক কিছুই ঘটছে।

একটা আধাখেচড়া মিলিটারি সরকার গদি ছাড়ছে। মেলা নাটকের পরে ইলেকশন হৈছে। ইলেকশনের সময়টা চুপ থাকা যায় না। কারন তখনি সবচেয়ে বেশি মিথ্যা তৈরী হয়, আদর্শের বেচাকেনা হয়। চুপ থাকা যায় না।

চুপ থাকতে পারি নাই যখন মিথ্যাকে সত্যের সাথে মিশায়ে সত্য করতে চায় প্রতিষ্ঠিত দৈনিক পত্রিকারা (প্রথম আলো)। ২৫ বছর চুপ ছিলাম। আর না। এখন ফেইসবুক আছে...অভ্র আছে...কিছু লিখে ফেলা যায় চট করে। সবাইকে জানানোও যায়। দেশের নামে যখন মৌলবাদী তকমা পড়ে ইন্টারন্যাশনাল হার্ভার্ড বিভিউএ ... তখন আর বসে থাকা যায় না। সেটা যেই লেখুক...আমি তারে ছিড়েফুড়ে ফেলতে চাই আমার ফেইসবুক খাতায়। তাতে আমি রাষ্ট্রের চোখে দেশোদ্রহীতা হইলেও কিছু যায় আসে না। কারন সমর্থন পাবার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না...দেশ বিদেশ থেকে সমমনারা লাইক, কমেন্ট দিয়ে সমর্থন জানায়।

২দিনের নানা নাটকের পর যখন পিলখানায় বিডিয়ারের বিদ্রোহ ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে যায় আর প্রতি দিন লাশের হিসাবে গরমিল হয়... তখন আবারো আমরা লাশ গুন্তে বসি। সরকার ও সেনাবাহিনীর দেয়া গোজামিল গুলো নিয়ে কনস্পেরেসি থীওরী লিখি। এতগুলান লোক সারা দেশের কড়া নজরের মধ্যে মরে গেল...আবার হাজার খানেক পালিয়েও গেল...ফাইজলামো নাকি? সবচেয়ে বেশি তর্ক বিতর্ক হয় সেই সময়টাতে। সরকার অতটা সহিষ্ণু ছিল না। তারা ইউটিউব, মিডিয়া ফায়ার বন্ধ করে দেয়।

এরপর তেল গ্যাস নিয়ে অনেক হাঙ্গামা কর্লাম। অনেকের লাফছাপের পর...শেষ পর্যন্ত সরকারকে সমুদ্রসীমানার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে পাঠানো গ্যাছে। শেষ রক্ষা হলে হয়।

এরপর ক্যানো জানি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকদের মাথায় পোকা ঢুকলো। তারা বুঝলো ফেইসবুকেই সব ফাজিলের আস্তানা...সেখানেই তাদের সব অন্যায়ের বিপক্ষে জনমত গঠন হচ্ছে। সুত্রাংম কাটো মাথা। আমি টিভিতে ফেইসবুক বন্ধের খবরটা টিভির আগেই পাইছি..... মোবাইল ফেইসবুকেই। ভ্যান গাড়িতে বসে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্রাউজ কর্ছিলাম। টিভিতে শুনার আগেই ফেইসবুকেই এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখলাম সবার মাঝে। আর কোন দিন সরকার এই দুঃসাহস কর্বে বলে মনে হয় না।

মাত্র ১ সপ্তাহ। সরকার আর ফেইসবুক বন্ধ রাখতে পারলো না। তারা আমারদেশ বা যমুনা টিভি, চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে যতটা জনপ্রিয়তা হারাইলো...ফেইসবুক বন্ধের ঘোষনা দেয়া মাত্র, তারচেয়ে বহুগুন পাব্লিক পচানি খাইছে। বিশ্বাস হয় না? প্রমান আছে। আমারদেশের সম্পাদককে সাজানো নাটক করে গ্রফতার করে এখন এটা সেটা নানান মামলায় জড়িয়ে আবার ৮ দিনের রিমান্ড নেয়া হয়েছে। শ খানেক সাংবাদিককে চাকরী ছাড়া করা হয়েছে। আবার একটা গণ মামলা দিয়ে সবাইকে দৌড়ের উপ্রেও রাখা হোইছে। কৈ...এত বড় অন্যায়ের পরেও সরকার দিব্বি রিমান্ড, গ্রেফতার চালাচ্ছে। অথচ ফেইসবুক বন্ধ করে সরকার ৭দিনও থাকতে পারে নাই। কাউকে গ্রেফতার না করেও...কারো কোন ভোগান্তি না দিয়েও...ব্রুট মজরিটির সরকার হঠাত জাতীয় ভিলেন হয়ে গেল। বাকশালের গালি হজম করতে হইলো?

সারাদেশে সুলভ ইন্টারনেট আর মোবাইল নেটওয়ার্কই হবে সবচেয়ে বড় মিডিয়ার শক্তি...টিভি চ্যানেল বা সংবাদপত্র না। জনগনই হবে দেশের প্রধান বিরোধীদল। এখনো হয়ত ইন্টারনেট অতটা জনপ্রিয় হয় নাই গ্রামে গঞ্জে। কিন্তু সেই দিন দূরে নাই যেদিন প্রত্যন্ত গ্রামের কোন কৃষক "সার দে হারামজাদা" স্ট্যাটাস বা টুইট দিয়ে সারাদেশে হৈ চৈ ফেলে দিবে।

ডিজিটাল সরকারকে ধন্যবাদ। ফেইসবুক বন্ধ না হলে আমরা ফেইসবুকের শক্তিটা পরখ কর্তে পারতাম না। এখন বুঝতে পারি...আমাদের কমেন্ট শেয়ার, লাইক, নোট, লিঙ্ক এগুলাই আগামী কালের গণতন্ত্রকে আকৃতি দেয়। শুধু এন্টারটেইন্মেন্টই না, ফেইসবুককেই আধিকার আদায়ের হাতিয়ার বানান। শাসকের দল আপনাকে তখনি ভয় পাবে, যখন আপনার আওয়াজ সারা দুনিয়ায় শোনা যাবে।

রাজা হবুচন্দ্রের সহিত বাঙ্গাল

একদা রাজা হবুচন্দ্রের দেশে স্বাদু জলের বড় আকাল পড়িল। দীর্ঘদিন বারিষ হয় না। মাঠের ফসলাদি জলের অভাবে বিনাশ হোইল। এমতাবস্থায় রাজ্য ত্রান সাহায্যের বড় জরুরত পড়িল। জলের অভাবে চারিদিকে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। প্রজাগণ রাজসভার হর্তাকর্তাদিগের নিকট ত্রানের আশায় নানান দাবি-দাওয়া তুলিল। রাজসভার সকলের এই ঘোর দূর্দিনে কোষাগার উন্মুক্ত করিয়া লঙ্গরখানা খুলিবার ব্যাপারে সম্মত হৈলেন। কিন্তু হাড় কিপ্টে রাজা হবুচন্দ্রেকে একথা কে বলিবে?কাহার ধড়ে দুইখানা মাথা! কেহই সাহস করিয়া উঠিতে পারিল না। সকলে মিলিয়া বাঙ্গালকে ছাই দিয়া ধরিয়া বসিল। বাঙ্গাল কিছুতেই তাদের না করিয়া পিছলাইতে পারিল না। রাজসভায় সস্তা বিনোদনের কাজ ছাড়া আর কিছুই সে পারে না বলিয়া দূর্নাম আছে। এবার তা ঘুচবে...সেই আশায় এই দুঃসাহস করিতে রাজি হৈল বাঙ্গাল।

কিন্তু রাজসভায় কথা পাড়িতে গিয়া বাঙ্গাল বুঝিল, ইহা মোটেও ছেলে খেলা নয়। তাহার হাটু কাপিয়া উঠে...গলা শুকাইয়া যায়। কিপ্টে রাজা গেল বছর ফেরিতে ডুবিয়া মরা সকল পরিবারকে একখানা করিয়া ছাগলের রশি দিয়া বাড়ি পাঠাইয়াছিল। জলের অভাবে এখনো কেউ মরে নাই...অবশ্য মরিতেও দেরি নাই। এবছর না মরলেও আগামী বছর না খেয়ে আদ্দেক মরবে নিশ্চিত। বাঙ্গাল ভাবিল...সোজাসাপ্টা রাজকোষ খুলিবার কথা বলিলে জুতো ছাড়া কিছুই মিলিবে না। তাই সে অনেক ভাবিয়া ভিন্ন পথ নিল।

পরদিন রাজসভার প্রভাতী অধিবেশনে বাঙ্গাল একখানা পুরনো ময়লা ধুতি... হাটুর কিছুটা উপরে পড়িয়া আসিল। সকলে মুখ টিপাটিপি করিয়া হাসিতে লাগিল। সবার পরনে চকচকে কাপড়চোপড়ের মাঝে মলিন বিমর্ষ বাঙ্গালের সুচিক্কন কৃষ হাটু বড়ই বেখাপ্পা লাগিতেছিল। ব্যাপারখানা রাজা হবুচন্দ্রের নজর এড়াইলো না। বাঙ্গালকে ডাকা হৈল।

"কিরে তোর কি হইয়াছে? ধুতিখানাও ঠিক মতো পড়িতে শিখিস নাই?" রাজা শুধান।
- জ্বী রাজা মশায়। বেয়াদপি লিয়েন না...আজ্ঞে রাস্তা ঘাটে বড্ড ধুলোতো তাই উঠিয়ে রেখেছি এক্টূ
"ক্যানো রে...ধুলো লাগ্লে ধুয়ে ফেল্লেই তো হয়...হেহে"... চারিদিকে হাসিতে কয়েকজন একে অপরের উপরে এলাইয়া পড়িল।
- "আজ্ঞে কাপড় ধোয়ার সাবানতো বাসায় রয়েচে...কিন্তু জল নেই"
- "বড় হাসালিরে...তোর বাসায় জল না থাকলে ধোপার কাছে দে..."
- "রাজা মশায়...আমার ধোপা গতকাল জল খাইতে না পাইয়া তেষ্টায় মারা গেছে"

চারিদিকে নিরবতা পড়িল। হবুচন্দ্র ক্ষিপ্ত হোইয়া তাহার ডিজিএফাইকে ডাকিলেন "প্রজারা পানির অভাবে মরিয়া জাইতেছে তোমরা আমায় সেই খবরটা দিতে পারিলে না...আমাকে শুনিতে হৈল নটাঙ্গি বাঙ্গালের কাছে...তাও আধা ঘন্টা নাটক করিবার পর!"

ডিজিএফাই বাহাদুর বিশাল গোফ নাড়ীয়া বলিলেন "খবর নিবার জন্য ঘোড়সাওয়ার পাঠাইতে চাইয়াছিলাম...কিন্তু রাজপ্রসাদ হৈতে এতটা পথ যাইতে ঘোড়ারো পানি খাইতে হয়...উহা পাইব কোথায়?"

পরদিন রাজা হবুচন্দ্র রাজ্যে নিয়ম জারি হোইল "প্রকাশ্যে কাপড় ধোয়া নিষেধ। ধুতি হাটুর উপরে পড়ীতে হবে"...লে হালুয়া!

------------------------------------------------------------------------------
এতটুকু স্বপ্ন দেখবার পরে বাঙ্গালের ঘুম ভাঙ্গল। হবুচন্দ্রের দেশে নয়...নিজের বাংলাদেশে। ফ্যানের পাখা ঘুরছে...কারেন্ট গেলেও সমস্যা নাই...আইপিএস আছে। রিমঝিম বরষাও এসে গেছে। কাথামুড়ি দিয়ে কষে ঘুম দিল সে। বাংলাদেশের সব মানুষই এখন আরামে ঘুমুচ্ছে। বিদ্যুত নিয়ে তারা আর ভাবে না। এ বছরটা না হয় গেল। আগামী বছর গ্রীষ্মে? একদিকে সরকার এডিবির ঋণে গ্যাস পাইপ বসিয়ে যাচ্ছে। গ্যাস কোথায়? পাচ বছর আগে আমরা খাম্বা পুতেছি। এখন বিদ্যুত নাই।
দুইকোটি মানুষের কংক্রীটের জঙ্গলে কি শান্তিতেই না আমারা আছি। ১১৭জন পুড়ে মরেছে? দুই দিন চুক চুক করে ঢাকাবাসি। আরো ডজন খানে ভবণ ধসে মরেছে? আহারে। ওরা অভাগা ছিল। আমিতো বেচে আছি। দামি ফ্লাটে আছি...লক্ষাধিক টাকায় কেনা...হুহু...হেল্বে না ফাটবে না...ভূমিকম্প? সেটা আবার কবে হয়েছিল?

ঢাকাবাসি আবার ঘুমায়। আগামী বছরের চিন্তা কে করে? আগামীকালের চিন্তাইতো মাথায় আসে না। হবুচন্দ্রের দেশে সবাই সুখেই থাকে। যাদের সুখ শেষ হয়...তারা মারা যায় বা পুড়ে যায় বা কোথাও মাথা থেতলে চাপা পড়ে থাকে...শিয়াল-শকুনেরা তাদের খোজ পায়। ঢাকাবাসী তাদের খোজ রাখে না।

২৯ মার্চ, ২০১০

গুরু ধরিতে বাঙ্গাল পুনরায় ঢাকায়

পূর্ব পাঠের পুনরালোচনাঃ বাঙ্গালের মিথ্যা ইমাম সাহেব ফাস করিয়া দেয়ায় গ্রামে ছি ছি রব উঠিল। একি করিল বাঙ্গাল? সামান্য একটুকরা জমিনের জন্য আপন দাদির পেটের চাচার নামে মিথ্যা অপবাদ। এত জ্ঞানপাপী!

বাঙ্গাল এই অপমান সইতে না পারিয়া। গ্রাম ত্যাগ করিল। সে বুঝিল, তাহার দরকার একজন মুরুব্বি। চট করিয়া মাথায় আধুনিক ইতিহাসের পাঠশালার গুরুর নাম আসিল। হুম। সেবার বেমক্কা প্রশ্ন করিয়া মশায়ের ধুতিতে টান ফেলিয়া... বড় শর্মিন্দায় ফেলাইয়াছিল বাঙ্গাল। এবার গড় করিয়া পেন্নাম দিয়া তার প্রায়সচিত্ত করিবে বলিয়া সে মনে মেনে ঠিক করিয়া নেয় সে।ঢাকায় আসিয়া সোজা পাঠশালার দিকে রওনা হয় সে। পাঠশালায় আসিয়া বাঙ্গাল থমকিয়া দাড়াইল।একি। দরজা বাহির হৈতে বন্ধ। দেয়ালে সেই পুরানো নোটিশটাও আছে "কুকুর ও ছাগু প্রবেশ নিষেধ"। পাঠশালার নোটসমূহ বারান্দায় ছড়ানো। কিন্তু গুরুর দেখা নাই। প্রবেশদ্বারে গুরুর খড়ম জোড়াও নাই। তবে কি পাঠশালা বন্ধ হৈয়া গিয়াছে?

বাঙ্গাল কিছুক্ষন ঠায় দাড়াইয়া রয়। তারপর সে পথে পথে ঘুরিয়া বেড়ায়। উদ্ভ্রান্ত বাঙ্গাল তার আধুনিক ইতিহাসের পাঠ এখন কার কাছে লৈবে? কোথায় তার গুরু? প্রখর রদ্দুরে ঢাকার পথে পথে ঘুরিয়া বাঙ্গাল শ্রান্ত হৈল। সারা সকাল ঘুরিয়া ব্যর্থ হৈয়া এক বাড়ির সামনে আসিয়া তার পা থামিয়া গেল। দুয়ারে আঘাত করিতে ভিতর হৈতে ৮/৯ বৎছরের এক বালক দ্বার খুলিয়া উকি দিল।

বাঙ্গাল বলিল "দিদি, আমায় একটু জল দিবে?"
বালক মুখ ঝামটা দিয়া বলিল "আপনার মাথা ঠিক আছে...মশাই?"
বাঙ্গাল ক্লান্ত হৈয়া মাটিতে বসিতে বসিতে কহিল "গুরু হারাইলে কি মাথা ঠিক থাকে মা!"
----------------------------------------

সিরিজের অন্যান্য লেখা
আধুনিক ইতিহাসের জনককে বিদায় জানাইতে বাঙ্গাল উইঠা খাড়াইছে...ঐ তোরা তালি দে!

আধুনিক ইতিহাসের পাঠশালায় বাঙ্গাল, 'আ' তে আওয়ামী, 'ব' তে বাকশাল

আধুনিক ইতিহাসের পাঠশালায় বাঙ্গাল-দ্বিতীয় খন্ড।

২৭ মার্চ, ২০১০

আধুনিক ইতিহাসের পাঠশালায় বাঙ্গাল, 'আ' তে আওয়ামী, 'ব' তে বাকশাল (দ্বিতীয় খন্ড)

পূর্বপাঠের পুনরালোচনাঃ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নির্দেশে ইতিহাসে কাচা বাঙ্গাল বোলগে গিয়াছিল "আধুনিক ইতিহাস" শিখিতে। 'আধুনিক ইতিহাস' শিক্ষার পাঠশালায় গিয়া বিবাদে জড়াইয়া বাঙ্গালের নাম কাটা গেল। ফিরিবার কালে তার চটি জোড়াও খোয়া গেল।
------------------------------------------------------------------------------
কিন্তু অর্জনটাও কম নহে। গ্রামে ফিরিয়া নব্য ইতিহাস জ্ঞান ছড়াইয়া সে বেশ খ্যাতি পাইয়াছে। এ বাড়ির মিষ্টি কুমড়ো, ও বাড়ির পাকা কলা ইনাম আসিল।১০ গ্রামে এরম কথা কেউ বলিতে পারিয়াছে? দিকে দিকে তার বাণী ছড়াইয়া গেল। "বাকশাল ছিল দ্বিতীয় বিপ্লব, সমাজতান্ত্রিকমন্ত্রের বিপ্লব। যাহারা উহাকে স্বৈরশাসনের রুপকল্প বলে তাহারা আসলে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি"। তবে লোকে আরো জানিতে চায়। তাহারা আরো শুনিতে চায় বাঙ্গালের কাছে। বাঙ্গাল ভাবিয়া পায় না, সে নুতন কি বলিবে। কোথা হৈতে বলিবে, সবি তো ইতিহাস। সকলে দেখিয়াছে। বানাইয়া বলিলেতো ডাহা মিথ্যা হৈবে। এদিকে আমাগোবোলগের আধুনিক ইতিহাস শিক্ষার দুয়ারো বন্ধ।নাম কাটা। আর কে যায় ওপথে আবার চটি জোড়া হারাইতে!

অনেক ভাবিয়া একদিন প্রভাতে বাঙ্গাল ঢাকার পথে রওনা হৈল। ঝোলায় আধুনিক ইতিহাস শিক্ষার নানান ফরমান। ঢাকায় আসিয়া সে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের রাস্তায় ঘুরিতে লাগিল। জনে জনে জিজ্ঞাসিল "আধুনিক ইতিহাস শিক্ষা কোথা পাই?"। এরুপ কোন ডিপার্ট্মেন্টের কথা কেহ বলিতে পারিল না। শেষে এক রিক্সাচালক ভ্রাতা বলিল "পাব্লিক লাইব্রেরী যান মামা, উহা জ্ঞান ভান্ডার"। পাব্লিক লাইব্রেরীতে গিয়া বাঙ্গাল নানা পুস্তক ঘাটিল। কিন্তু নুতন কিছুই পাইলো না। কোথায় আধুনিক ইতিহাস? সবি তো গ্রাম্য বিদ্যালয়ে পড়ানো সেই পুরাতন ইতিহাস লাগিচ্ছে। মোটা মোটা বই টানিয়া বাঙ্গাল হাপাইয়া উঠিল। শেষে পুস্তক ছাড়িয়া পত্রিকা ধরিল। সহসা তাহার জ্ঞান নেত্র উন্মোচিত হৈল। আহা! ইহাই তো খুজিতে ছিলাম। খাতা খুলিয়া বাঙ্গাল খসখস করিয়া নোট লৈতে থাকিল।

"দুনিয়া কাপানো ত্রিশ মিনিট"- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বিষয়ে ২০১০ সালের পূর্বে কেহ এই বিষয়ে আলোকপাত করে নাই। শেষমেষ গ্রাম্যমুঠাফোন আর শহুরে প্রথম আলোই ইহা ইতিহাসের খনি হৈতে টানিয়া তুলিয়া লোকের সুনাম কাড়ীল। ইহা আধুনিক ইতিহাস না হৈয়া যায় না।

“ভাষা আন্দোলনে শেখ মুজিবের অবদান”...হুহু...ইহাও নুতন,২০১০ সালের আগে কেহ এরুপ দাবি করে নাই। ১৯৫২ সালে তরুন যুবা শেখ মুজিব সুদূর কলিকাতায় বসিয়া সুতা টালিয়া বাংলা ভাষাকে রক্ষা করেছেন।গুনীলোকের কর্মপ্রক্রিয়াই অন্যরকম। ইহারা স্থান-কাল-পাত্রকে জয় করিয়া কোথা হৈতে কবে উদয়, কাহাকে কুপোকাত করে বুঝা যায় না।
যথেষ্ট। বাঙ্গাল গুলিস্তান আসিয়া বাসে উঠিল।বাস যাত্রায় সে শুধুই ভাবিল। তাহার তন্ময় ভাবনা সুদূর প্রসারী।

পরদিন গ্রামের মুরুব্বি জমায়েতে বাঙ্গাল তার খাতা খুলিয়া জ্ঞান বিতরন সারিল। একি শুনাইলো বাঙ্গাল। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা-সকলের মুখ সদ্য প্রস্ফুটিত শাপলার ন্যায় প্রসারিত হৈল। খাতা নামাইয়া রাখিয়া বাঙ্গাল বলিয়া চলিল “ভাষা আন্দোলনের সেই ত্রিশ মিনিটের আন্দোলনে যোগদিতে আমার বাবাও ঢাকা গিয়াছিল। মিছিল করিয়াছিল। শেষে পুলিশের ধাওয়া খাইয়া গ্রামে ফিরিয়া আসিয়াছিলেন। কিন্তু টিয়ারগ্যাসের প্রভাবে তাহার চোখে সমস্যা দেখা দেয়। এই সুযোগে তমিজ চাচা জমির দলিলে বাবার সাক্ষর করাইয়া জমির দখল লৈয়াছে।”
তমিজ মিয়া দাড়াইয়া ছাতি উচাইয়া কহিল “তবেরে! ছ্যাপ দিয়া গুনিয়া তোর বাবারে জমির দাম দিয়াছি। ভুলিয়া গিয়াছিস!”
বাঙ্গাল নির্লিপ্ত “ভাষার জন্য লড়াই করিতে গিয়া আমার বাবা জমিন হারাইয়াছেন। তোমরা আমার জমিন ফিয়াইয়া দাও। তমিজ চাচা...স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি...ছলেবলে সে জমিন দখল নিয়াছে”। সকলে গুঞ্জন তুলিল। একিরম কথা, চাচা হৈয়া ভাতিজার হক মারিয়া দিল তমিজ! বেশ গোল বাধিল।

গ্রামের মসজিদের ইমাম কলহ থামাইতে বলিল "শোনো বাবা, বাঙ্গাল। তোমার বাবা আমার বাল্য বন্ধু ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী আমরা একত্রে পলাইয়া সিনেমা দেখিতে শহরে গিয়াছিলাম। আল্লাহ মাফ উনার আত্মার শান্তি দিন"
----------------------------------------
অন্যান্য রম্য লেখা
আধুনিক ইতিহাসের পাঠশালায় বাঙ্গাল, 'আ' তে আওয়ামী, 'ব' তে বাকশাল-প্রথম খন্ড
ক্যান্টিনে শোরগোল!- বাই বুয়েটিয়ান ফর বুয়েটিয়ান অফ বুয়েটিয়ান
বুয়েটের ঝড় ডুয়েটেও আসিতেছে! হুশিয়ার!
নয় রশি পীরের(RP9) তাবীজ!

২২ মার্চ, ২০১০

আধুনিক ইতিহাসের পাঠশালা, 'আ' তে আওয়ামী, 'ব' তে বাকশাল

ইতিহাসে বাঙ্গাল বরাবরই কাচা ছিল। কিছুতেই সন মনে রাখিতে পারিত না সে। তারপরেও কি করিয়া যেন সে পরীক্ষায় টানিয়া টুনিয়া পাশ করিয়া ফেলাইত। বিদ্যালয়ের ইতিহাস শিক্ষকের নজরে ব্যাপার খানা ধরা পড়িল। তিনি উপদেশ দিলেন...আধুনিক ইতিহাস কিছু শিখিতে চাস তালে... বোলগে যা। শিরোধার্য গুরুপদেশ।আধুনিক অনলাইন শিক্ষা। বাঙ্গাল আমগোবোলগে আর সামু বোলগে একাউন্ট খুলিল। খুজিয়া বেড়াইলো আধুনিক ইতিহাস শিক্ষার বোলগ। নানা লিঙ্ক ঘুরিয়া সে আধুনিক ইতিহাস খুজিল। শেষে পাইল ফুফার বোলগ। সেখানে সে আধুনিক ইতিহাসের জ্ঞান লাভ করিয়া গুরুর নিকট ফিরিল।

- তো বল, কি শিখিয়া ফিরলি!
- জ্বী। ফুফার বোল্গে দেখিলাম "হাজার বছরের শেষ বাঙ্গালী শেখ মুজিবর প লাশীর প্রান্তরে সিরাজকে ল ড়িবার নির্দেশ দিয়াছিলেন। কিন্তু অনভিজ্ঞ সিরাজ উনার নির্দেশ সঠিকরুপে পালন করিতে না পারিয়া, পলাশীর বাজারে বাংলার স্বাধীন তার সূর্য টানিয়া নামাইয়াছে। পরবর্তীতে সেই স্বাধীনতার সূর্য আবার টানিয়া উঠাইয়াছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী।"
বর্ননা শেষ হৈবা মাত্র বাঙ্গালের গালে চড় পড়ীল।
গুরু মশায় চটিয়া কহিলেন "এ তোর আধুনিক ইতিহাস শিক্ষা হৈল? অনলাইনে বসিয়া জ্বালা ডট কমের চটি পড়িলেও এর চেয়ে ঠের ভাল শিক্ষা পাইতি।"
মশায়ের মুখে একি কথা। রাম রাম। বাঙ্গাল মিউ মিউ করিয়া শুধাইল " তালে কোন বোলগ পড়িব?"

- হুম। জ্বালা ডট কমের দন্ডমুন্ডির কর্তা লিখিতেছেন আমাগোবোলগে। উহা পড়িয়া জ্ঞান বৃর্দ্ধি করিয়া আয়।

পরদিন প্রভাতে বাঙ্গাল স্নান সারিয়া আমগোবোলগে গেল। বোলগের প্রবেশ দ্বারে বড় করিয়া "ড়াজাকার ও কুকুর ঢুকিতে মানা" লেখা। বাঙ্গাল বুঝিল গুরু তাহাকে সঠিক শিক্ষকের সন্ধান দিয়াছেন। চটি জোড়া খুলিয়া সে প্রবেশ করিল।ইহা স্বাধীনতার স্বপক্ষের ইতিহাস শিক্ষক না হৈয়া যায় না। আধুনিক ইতিহাসের চর্চাতো ইহারাই করিতেছে। গুরু বলিয়াছিলেন "আধুনিক ইতিহাসই প্রকৃত ইতিহাস। যে ইতিহাস তোর বাবা-দাদা পাঠ করিয়াছে, কিন্তু ভূলিয়া ভ্রম ঠাউরাইয়াছে...এবং বতর্মানে সে ইতিহাস 'স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি' ঘবেষনা করিয়া টানিয়া তুলিয়া আনিয়াছে উহাই আধুনিক ইতিহাস।"

সুন্দর পাঠশালা। গুছানো। আধুনিক পিসি। স্ক্যানার। ভিডিও ক্যামেরা। আর একখানা পুরানো টাইপ রাইটার এক কোনায় পড়িয়া আছে। আধুনিক পিসির পাশে পুরানো টাইপ রাইটারের কি জরুরত তাহা বাঙ্গালের ক্ষুদ্র খুপ্রিতে ঢুকিল না।

মনিটরে সদ্য লিখা একখানা বোলগ দেখিল। "দ্বিতীয় বিপ্লব বা বাকশাল : শুনুন বঙ্গবন্ধূর মুখেই"। বাঙ্গাল দ্রুত টুকিয়া লইল খাতায় লিঙ্কঃ http://omipial.amarblog.com/posts/101959

কমেন্টে গিয়া বাঙ্গাল প্রশ্ন রাখিল "বাকশাল গঠন করিয়া উহাকে দ্বিতীয় বিপ্লব বলিয়া উহার শীর্ষপদে নিজেই আসীন হৈয়া 'হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী কি গণতান্ত্রিক কাজ করিয়াছে?'
-উত্তর আসিল। "উহা গণতান্ত্রিক নহে মূর্খ ... সমাজতান্ত্রিক সীদ্ধান্ত। তুই কেরে ...উনাকে তাচ্ছিল্য করিস!"

বেয়াড়া বাঙ্গাল শুধাইলো "গুস্তাফি মাফ করিবেন জনাব। শিক্ষার উদ্দেশ্যে আরো একখানা প্রশ্ন রাখিতে চাই। সমাজতান্ত্রিক দেশ গড়িবার সাধ থাকিলে তা প্রথমেই কেন করা হৈল না। কেন হঠাত ৩ বছর রাজকার্য চালাইবার পর সব রাজনৈতিক দলকে নির্বংশ করিয়া বাকশাল করিতে হৈল। বিরোধীরা কি বড় বেশী গোল বাধাইতেছিল? আর যদি ইহা উনার শেষ খোয়াব হৈবে...তাহা হৈলে আওয়ামী সরকার তাহা বাস্তবায়ন না করিয়া ক্যানো বহুদল লৈয়া ভেজাল পাকাইতেছে? আজ উহাকে পিটায়...কাল তাহার মাথা ভাঙ্গে "

আর বরদাস্ত হৈল না।আধুনিক ইতিহাসের পাঠশালা হৈতে বাঙ্গালের নাম কাটা গেল। তাহার অপরাধ... সে বড় বেয়াড়া প্রশ্ন করিয়া পন্ডিত মশায়ের ধুতিতে টান ফেলাইয়া দিয়াছিল।

১৩ মার্চ, ২০১০

আমার বউ কই?

সকাল থিকা মনটা কষা হয়া আছে...বিবিধ কারনে। আমার চারদিকে বিবাহিত লোকজন গিজগিজ করতেছে। অফিসে- সামনের টেবিল, পাশের টেবিল--- সব নব বিবাহিতদের দখলে। এরা প্রায়ই ফিসফাস কইরা ফোনে কথা বলে...আমার দিকে আড়চোখে তাকায়। এদিকে আমার আনন্দউদযাপনকারী দলটাতেও বিবাহিতরা এখন সংখ্যাগুরু...সবখানেই সমঝে চলতে হয়। জানুয়ারীতে শাওন মড়কটা লাগাইছে...মার্চে সাফফু, এই হপ্তায় পিয়াসের বিয়া, মে মাসে নাঈমের... হাসিব ভাই, প্রতনু, আবীর, রুশো সব পাইপ লাইনে ঢুইকা আছে......মাইনে সামনে পিছে...জলে স্থলে অন্তরীক্ষে সর্বত্র বিয়া। ফেসবুক খুল্লেই কারো না কারো বিয়ার ছবি। উফফফ। "বিবাহিতরা আমার হাড় জ্বালাতন করিতেছে"। এইজন্যি ইদানিং ফেসবুকে তেষ্টাইতে না পাইরা Somewherein ব্লগে আসছি।

এমতাবস্থায়, কেন জানি আজকাল যেকোন মেয়েরেই ভাল লাগতেছে । ভাবতেছি বাসায় হুমকি দিয়া বেনামে একটা উড়োচিঠি দিব কিনা...রেজিষ্টার শাহাজাহানের আদলে

"আপনার ছেলে ইউনিভার্সিটির কতিপয় মুষ্টিমেয় মেয়েদের সাথে লটরপটরে জড়িয়ে পড়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পরিপন্থী। মেয়েদের উস্কানিমুলক থুক্কু আস্কারামুলক মন্তব্য করে সে নিজের একাডেমিক জ়ীবনের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। তাকে সমঝে চলতে বলুন, নতুবা বিয়া দেন"------ ইউনিভার্সিটি রেজিষ্টার শাহাজাহান

হবু জামাই পিয়াস জব্বর একটা কবিতা লিখছে

ঢাকায় শিলা বৃষ্টি হইলে আমার ভেতরে তোলপাড় হয়
--পি.কা. (পিয়াস কাওসার)


ঢাকায় বৃষ্টি হইলো, আমি শুকনা / আমার শিলা কই?/
আমার কিশোর শহরে ভেজা রাস্তা , পীচ পথে মাটির ঘ্রান,/আমার মাটি কই? /
আমি থাকুম না এই খানে ,আমারে ছুটি দাও/ আমার জীবন কই?

আমার এত প্রতিভা নাই...তাই প্যারডি করার ছাড়া উপায় নাই...শেষ পর্যন্ত পিয়াসের কবিতাটাই হাতাইলাম

ঢাকায় পিকার বিয়া হইলে আমার ভিতরে গ্যাস্টিকের জ্বালা হয়

ঢাকায় পিকার বিয়া হইবো, আমার কি?/ আমার বউ কই?/
আমার পরিচিত ঢাকায়... বন্ধুর বিয়া, বিরিয়ানী, রেজালার ঘ্রান/ আমার প্লেট কই/
আমি থাকুম না এইখানে ,আমারে বিয়া দাও/ আমার বিবি কই?


অনেক কষ্টে আমি মোটে এক লাইন বাহির করতে পারছি...
"আজকাল মোবাইলটা লাগে না তেমন কাজে, মিসকল এসএমএস দাও না আর মাঝে মাঝে,
যখন এলার্ম দেই তখনি শুধু বাজে..."

---------------------------------------
অন্যান্য লেখা

ব্যানানা বাংলাদেশ-২ (প্রথম আলোর ইহুদীডিম্ব!)
ব্যানানা বাংলাদেশ-১ (ইকোনমিক হিটম্যান)
প্রথম আলো তাহার জাত চিনাইয়াছে
কন্সপিরেসি থিওরী-পারট ৩ (সিউডো-জ়ঙ্গি রাষ্ট্রের ছায়া)
তুমি অধম হইলে আমি ততোধিক অধম হইব!

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৮